এই মুহূর্তে ফ্যাশনে নির্দিষ্ট কোনো ধারা নেই। একসঙ্গে অনেক ধরনের কাটছাঁট চলছে বলে মনে করেন ডিজাইনার লিপি খন্দকার। পোশাকে লেয়ার, উঁচু-নিচু কাট, কুঁচি, প্লিট, ফ্রিল, কলি ব্যবহার করা হচ্ছে। পোশাকের লম্বা কখনো মাটি ছোঁয়ানো আবার কখনো হাঁটু পর্যন্ত। স্কার্টের সঙ্গে শুধু টপ নয়, কামিজও পরা হচ্ছে। ধুতি সালোয়ার, পালাজ্জো, টিউলিপ প্যান্ট চলছে। এই স্টাইলগুলোর কিছু নতুন আবার কিছু দু-এক বছরের পুরোনো। খুব সাধারণভাবে আর পোশাকে স্টাইল করা হচ্ছে না। বরং পোশাকের ওপর পোশাক পরার মাধ্যমে লেয়ার করা হচ্ছে, এতে নতুনত্ব আসছে লুকে।
সুতির শাড়িতে স্টাইলিস্ট
সুতির শাড়ি পরেও বিয়েবাড়ি বা জমকালো দাওয়াতে যাওয়া যায়। যদি বহন করতে পারেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে, তাহলে আপনিই হয়ে উঠবেন সেখানকার মধ্যমণি। ডিজাইনার ইসরাত জাহান সব সময় শাড়ি পরেন। সেটা বিয়ের দাওয়াত হোক কিংবা কোনো ছোট-বড় পার্টি। তিনি জানান, সুতির শাড়ি সব সময় পরা যায়—ঘরে-বাইরে, দাওয়াতে, রাতের বেলায়। তবে পরতে হবে জায়গা অনুযায়ী। দিনের বেলা যখন সুতির শাড়ি পরবেন, গলায় গয়না থাকতেও পারে, থাকলেও হালকা নকশার। রাতের বেলা যদি একই শাড়িতে দাওয়াতে যেতে চান, বদলে নিতে হবে সাজ-গয়না-চুলের স্টাইল।
এক রঙের প্রাধান্য আছে, এমন শাড়িগুলো পরলেই ভালো। দাওয়াতের সময় ব্লাউজের কাট বদলে যাবে। সাধারণ হাতকাটা ব্লাউজও পরতে পারেন। গলায় মালাকে তুলে ধরবেন, নাকি খোঁপার ফুলের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলবেন, সেটার ওপর নির্ভর করেই দাওয়াতের পুরো সাজসজ্জা ঠিক করে নিতে পারবেন।
সালোয়ারে কাটছাঁট
ভিন্ন কিছু আসলেই যে জনপ্রিয় হবে, এমনটি নয়। তবে কিছু পোশাক বেশ কিছু বছর ধরে টিকে আছে ভালোভাবেই। পালাজ্জো তেমনই একটি। গত কয়েক বছরে পালাজ্জোয় একবার ঘের বেড়েছে, তো আরেকবার কমে গেছে। হেমলাইন কখনো ছিল নকশাবিহীন, কখনো আবার সেখানে যোগ হয়েছে লেস বা হাতের কাজ। এখন আবার ঘের কিছুটা কমের দিকেই।
উঁচু-নিচু কাট
প্রথম দিকে পোশাকে উঁচু-নিচু কাট অনেকেই পছন্দ করতেন না। তবে এটা এখন এতই জনপ্রিয় যে প্রায় প্রতিটি পোশাকেই এই কাট দেখা যাচ্ছে। কামিজ, ফতুয়া, গাউন ইত্যাদি পোশাকে উঁচু-নিচু কাটছাঁট এখন প্রচলিত। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিকভাবে হেমলাইনে উঁচু-নিচু কাট এসেছিল। ডিজাইনার মারিয়া সুলতানা বলেন, ‘২০১৩ সালে আমাদের দেশে এই ছাঁট এলেও ক্রেতারা প্রথমে খুব একটা গ্রহণ করেননি। ২০১৪ সালে অনেকে এই কাটের পোশাক পরা শুরু করেন। বাকিটা ইতিহাস। সামনে ছোট, পেছনে বড়, পাশে উঁচু-নিচু কাট আরও চার-পাঁচ বছর চলবে।’
জ্যাকেট
লম্বায় ছোট-বড় জ্যাকেটের চল এবারের শীতে আবার আসবে। তবে মজার বিষয় হলো, গরমের সময়ও এই জ্যাকেট বেশ জনপ্রিয় ছিল। পাতলা কাপড়ের তৈরি জ্যাকেটগুলো অন্য পোশাকের ওপর একটু ভিন্নতা আনতে পরা হয়। শুধু কামিজ, কুর্তা, ফ্রক, স্কার্টের সঙ্গেই নয়, শাড়ির সঙ্গেও জ্যাকেটের প্রচলন বেশ নজর কেড়েছে।
হাতায় ভিন্নতা
হাতার কাটছাঁটে বেশ ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ঢোলা হাতা, কুঁচি দেওয়া, ফ্রিল ব্যবহার করা, কোল্ড শোল্ডার, ঘটি হাতা ইত্যাদি হাতার প্রাধান্য দেখা গেছে।
লম্বা পোশাকের চল
ম্যাক্সি ড্রেস কিংবা গাউনের প্রচলন প্রথম দিকে কিছুটা বিস্ময়ের জন্মই দিয়েছিল। ২০১২ সালে ডিজাইনার মারিয়া সুলতানা গাউন তৈরি করেছিলেন। ২০১৩ সালে গাউনের প্রতি আগ্রহ দেখানো শুরু করেন ক্রেতারা। ঘের, প্রিন্সেস কাট, কোমর থেকে কুঁচি দেওয়া কাট, হেমলাইনে উঁচু-নিচু কাট ইত্যাদি নকশার গাউন, ম্যাক্সি ড্রেস, লম্বা ছাঁটের পোশাক জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ ভালোভাবেই। এখনো চলছে পুরোদমে।
স্নিকারস
স্নিকারস পরতে হবে প্যান্ট ও টপের সঙ্গেই। নিয়মটা এ রকমই ছিল চলতি বছরে। এই প্রচলন ভেঙেছে কিছুটা। পালাজ্জো, স্কার্ট, ফ্রক—সবকিছুর সঙ্গেই এখন স্নিকারস, কেডস পরা হচ্ছে।
গাঢ় লিপস্টিক, ছোট চুল
সাজের ক্ষেত্রে প্রতিবছরই আমরা কিছু না কিছু পরিবর্তন দেখে থাকি। ভিন্ন অনেক কিছুই অনেকে গ্রহণ করছেন। চুলে রং করা তেমনই একটি বিষয়। পাঁচ-ছয় বছর ধরে চুলে ইচ্ছেমতো রং করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। লাল, নীল, বেগুনি, হলুদ, সবুজ, গোলাপি ইত্যাদি রং ফ্যাশনপ্রেমীরা বেছে নিচ্ছেন চুল রাঙানোর জন্য। জানালেন রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান।