আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বেকসুর খালাস পাবেন বলে আশা করছেন তার আইনজীবীরা।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মো. মাসুদ আহমেদ তালুকদার যুগান্তরকে বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাজা দেয়ার সুযোগই নেই। এরপরও আদালত যদি এ মামলায় সাজার রায় ঘোষণা করেন, তবে আদালত যে নিরপেক্ষ নন তা প্রমাণ হবে।
বৃহস্পতিবার পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান মামলার রায় ঘোষণা করবেন।
যেভাবে আদালতে যাচ্ছেন খালেদা জিয়া
২০ ডিসেম্বর আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে আদালতে বলেন, এ মামলার যত ডকুমেন্ট এসেছে তার সবই ‘ওভাররাইটিং-ঘষামাজা’। খালেদা জিয়ার একটি রাজনৈতিক জীবন রয়েছে। সেখানে কলঙ্ক দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সার্বিকভাবে এটি একটি ‘সারবত্তাহীন’ মামলা। ২৭ ডিসেম্বর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, এটা একটা রাজনৈতিক মামলা। খালেদা জিয়াকে চোর বানানোই এ মামলার উদ্দেশ্য।
২৮ ডিসেম্বর সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপতির কল্যাণ তহবিলের পাতা কেটে অতিরিক্ত নথি সৃজন করা হয়েছে। কারণ- খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে ‘বিতাড়িত’ করতে হবে। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাধাগ্রস্ত করতে এ মামলা দেয়া হয়েছে।
১৬ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের শেষ দিন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করতে এ মামলা করা হয়েছে। এতে খালেদা জিয়ার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং জনপ্রিয়তা আরও বাড়বে।
এদিকে মামলায় শুধু নিজের খালাসই দাবি করছেন খালেদা জিয়া। বরং জাল-জালিয়াতি করে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার নথিপত্র সৃষ্টি ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা হারুন অর রশীদসহ ছয় সাক্ষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া।
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আইনজীবীর মাধ্যমে এ আবেদন করেন তিনি। তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া অপর সাক্ষীরা হলেন- পিডব্লিউ-০৯ মাজেদ আলী, পিডব্লিউ-১৪ সৈয়দ জগলুল পাশা, পিডব্লিউ-১৯ মোস্তফা কামাল মজুমদার, পিডব্লিউ-২০ তৌহিদুর রহমান খান ও পিডব্লিউ-২১ আবদুল বারেক ভূঁইয়া।
