কক্সবাজারের টেকনাফের এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার পর ১৭ লাখ টাকাসহ গোয়েন্দা পুলিশের ছয় সদস্য সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে মো. আবরুজুল হক টুটুল জানান, ওই ছয় পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। টেকনাফে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ কর্মক্রম পরিচালনায় স্থাপিত সেনা বাহিনীর ক্যাম্পের প্রধান মেজর নাজিম আহমদ জানান, বুধবার ভোরে মেরিন ড্রাইভ সড়কের শাপলাপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন- ডিবি পুলিশের পরিদর্শক তদন্ত ইয়াসিন আরফাত, এসআই আবুল কালাম আজাদ, গোলাম মোস্তফা, ফিরোজ আহমদ, এএসআই নুরুজামান ও সিপাহী মোস্তফা আলম।‘অপহৃত’ আবদুল গফুর টেকনাফের মধ্য জালিয়া পাড়ার হোসেন আহমদের ছেলে। তিনি টেকনাফ স্থল বন্দরে আমাদানি- রাপ্তানির ব্যবসা রয়েছে। উদ্ধারকৃত ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দিয়ে আটক ছয়জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। গফুর বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজার শহরের থানা রোড সংলগ্ন আল গনি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে বের হওয়ার সময় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন তাকে একটি মাইক্রোবাস তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে জিম্মি করে রেখে রাতভর আমাকে নানাভাবে নির্যাতন করে; পরে রাত আড়াইটার দিকে আমাকে মাইক্রোবাসে করে মেরিন ড্রাইভে নিয়ে গিয়ে ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। তিনি বলেন, এ সময় ডিবি পুলিশ আমার কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। প্রাণ ভয়ে আমি মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা বলে ১৭ লাখ টাকা দিতে চাইলে তারা রাজি হয়।
পরে আমার পরিবারের লোকজন মেরিন ড্রাইভ সড়কের মহেশখালিয়া পাড়ায় গিয়ে ডিবি পুলিশের ঠাকা দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয়। গফুরের ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান বলেন, তার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে টাকার দাবির বিষয়টি শুরু থেকে সেনাবাহিনীকে জানানো হয়। টাকা দিয়ে ভাইকে মুক্তি করার পর সেনাবাহিনীর সহায়তায় এ টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সেনা কর্মকর্তা নাজিম বলেন, বুধবার ভোরে কক্সবাজারের দিকে যাওয়ার পথে ডিবির সদস্যদের বহনকারী মাইক্রোবাসটি সেনাবাহিনী তল্লাশি চৌকিতে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে সেখানে ১৭ লাখ টাকা পাওয়া য়ায়। এ সময় ডিবি পুলিশের এসআই মনিরুজ্জামান পালিয়ে গেলেও ছয় জনকে আটক করা হয়। পরে আটককৃতদের কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারে মো. আবরুজুল হক টুটুলের কাছে হস্তান্তর করে ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয় বলে জানান তিনি। টুটুল বলেন, আটককৃত ডিবির ছয়জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে।
